ধর্মীয় অনুভূতি


Univarsal Light

বতর্মানে প্রয় সবাই ইসলামী চিন্তাবিদ, আর যারা বিশিষ্ট তারাতো তাদের নামের শুরুতে “মাওলানা”1 ব্যবহার করে থাকেন, তবে “মাওলানা” অথবা “হাজ্বী”2 বা “আলহাজ্ব”3 অর্থ তারা হয়তো জানেন তবে বোঝেন না নিশ্চিত। বিশেষ করে মাওলানা সাহেবরা “আল্লাহ”4 নামের পরিবর্তে “খোদা” নাম ব্যবহার করে থাকেন, যদিও আল্লাহর নিরানব্বই (৯৯) নাম ও কোরআন শরিফ এর কোথাও “খোদা” নামটি নেই। এক্ষেত্রে হয়তো তাদের যুক্তি থাকতে পারে, খোদা নাম দ্বারা আল্লাহ কেই ডাকা হচ্ছে, ঠিক আছে সমস্যা নেই তাহলে “ভগবান বা ব্রহ্ম”5 নামে ডাকলে সমস্যা কি? যেখানে পারস্যের এক অগ্নিপূজারীর নাম ছিল খোদা। কোরআন শরিফের অনেক ইংরেজি অনুবাদে দেখা যায় আল্লাহ নামের অনুবাদে “গড” ব্যাবহার হয়, অথচ গড এর লিঙ্গান্তর হয়, আল্লাহ নামের কোনো লিঙ্গান্তর হয় না বা নেই। অবস্য এসব কথা যে বলে তার কথার প্রতিউত্তর না দিতে পারলে তাকে “নাস্তিক”6 বলে বিতর্ক করতে চায়, যদিও নাস্তিক অর্থ অনেকেই জানলেও বোঝে না। কথায় আছে ‘অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী’, আমি অল্প বিদ্যায় ভয়ঙ্করী হতে চাই না, আমার সল্প জ্ঞানে যতটুকু জানি ও বুঝি তা হলো ‘ইসলাম মানে শান্তি এবং আল্লাহর সাথে কাওকে শরিক না করে আনুগত্য প্রকাশ7 ও আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতায় বিশ্বাস করা’। বস্তুত আল্লাহকে শরিক না করে মনে-প্রাণে যে নামে ও যে ভাষাতেই ডাকা হোক তিনি শুনেন ও মানুষের মনের খবর রাখেন। মূলত মৌলবাদী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিই (ধর্মান্ধ) মানবতাকে বিপর্যস্থ করে, মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে, ধ্বংশ করে সামাজিক মূল্যবোধ। অথচ সকল ধর্মই শিক্ষা দেয় মানবতার, শান্তি, মম্পৃতি ও বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ।

____________________________
  1. মাওলানা অর্থ দ্বারায় নিজেই মাওলা।
  2. হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে সফরকারীই হাজ্বী, হজ্ব পালন শেষে ঘরে ফিরে সে আর হাজ্বী থাকে না।
  3. হজ্ব পালন সম্পন্নকারীই আলহাজ্ব, তবে নবী(স.) ও সাহাবাগণ হজ্ব পালন শেষে নামের শুরুতে আলহাজ্ব ব্যবহার করেননি।
  4. আল্লাহ নামের কোনো প্রতিশব্দ নেই, ভাবার্থ ‘নিরাকার সয়ং সৃষ্ট একক সত্ত্বা’।
  5. ব্রহ্ম অর্থ নিরাকার একক স্রষ্টা।
  6. নাস্তিক অর্থ যে স্রষ্টায় বিশ্বাস করে না।
  7. আল্লাহ প্রদত্ত সকল আদেশ-নিশেধ ও বিধি-বিধান পালন করা।


ভূইগড়│ ২৮.০৫.২০১৭ খ্রি.