করোনাভাইরাস কি কোনো দিন নির্মূল হবে না?

করোনা ভাইরাস নির্মূল করা আমাদের উদ্দেশ্য না। একটা ভাইরাস প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হলে তাকে কৃত্রিম উপায়ে নির্মূল করা সম্ভব না, বিশেষতঃ সে যদি মিউটেশন করার ক্ষমতা ধারণ করে এবং মানুষের শরীরের বাইরেও বাঁচতে পারে।
তাহলে আমাদের উদ্দেশ্য কী? আসুন ধাপে ধাপে বোঝা যাক:
  • ভাইরাল রেপ্লিকেশনের নিয়ম হচ্ছে যত বেশি ভাইরাস রেপ্লিকেট করবে, আসতে আসতে তার ইনফেক্টিভিটি/সংক্রামকতা বাড়বে, অর্থাৎ আরো বেশি লোককে ছড়াবে। কিন্তু সংক্রামকতা বাড়লে তার ভিরুলেন্স/তীব্রতা কমবে, অর্থাৎ সে ইনফেকশন করলেও শরীরের বেশি ক্ষতি করতে পারবেনা।
চিত্র: Evolution from a virus's view
  • অতএব আমাদের লক্ষ্য, লং টার্ম, হচ্ছে ভাইরাসটি ছড়াতে দিয়ে তার তীব্রতা কমিয়ে আনা। এতে দুটো লাভ:
    • এক তো বোঝাই যাচ্ছে, তীব্রতা কমলে ১০ বছর বাদে এমন অবস্থা হবে যে কোভিড সংক্রমণ হলে লোকে হাঁচবে কাশবে ২দিন, তারপর ঠিক হয়ে যাবে।
    • দুই হচ্ছে হার্ড ইমিউনিটি (herd immunity) তৈরি করা। এর তত্ত্ব হলো যে, যদি একটি জনসংখ্যা গোষ্ঠীর অনেকজন একটি ইনফেকশনে ভুগে তার বিরুদ্ধে ইমিউনিটি/প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, তবে সেই জনসংখ্যার লোকজন সেই ইনফেকশনে আর ভুগবেনা। পোলিও দূর করার জন্য হার্ড ইমিউনিটি খুব বড় ভূমিকা পালন করেছিল।
    চিত্র: Herd Immunity - Concierge Medical

  • আমাদের শর্ট টার্ম লক্ষ্য হচ্ছে এই ভাইরাস যাতে খুব ধীরে ছড়ায় সে ব্যবস্থা করা। তার জন্যই এই লকডাউনের প্রচেষ্টা। একসাথে ১ কোটি লোক অসুস্থ হয়ে পড়লে সামলানোর পরিকাঠামো আমাদের নেই। তাই যদি এই ১ কোটি লোক ১ বছর ধরে কিছু কিছু করে অসুস্থ হয়, সেটা আমরা সামলাতে পারবো। তাতে মৃত্যুহার অনেক কম হবে। সোশ্যাল ডিস্টেনসিং করে আমরা রোগীর সংখ্যা কম রাখতে পারলে হাসপাতালে বেশি ভিড় হবেনা, সবাই উপযুক্ত চিকিৎসা পাবে। একই সংখ্যক রোগী, কিন্তু অনেকদিন ধরে অল্প অল্প করে।
চিত্র: COVID-19 social distancing: Together apart, screen time connects isolated kids with family, friends
  • আজ না হোক, ১ মাসে না হোক, আগামী ৫ বছরে আমাদের সবার করোনা হবে। যে বাড়তি সময় আমরা হাতে পাচ্ছি, তাতে আমরা পর্যাপ্ত হাসপাতাল বানাব, ভ্যাকসিন তৈরি করব, নতুন ওষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা করব; এর ফলে সত্যি যখন সবার রোগটা হবে, তখন সহজেই চিকিৎসা করা যাবে, এবং প্রাণহানি বিশেষ হবেনা।
সংক্ষিপ্তসার: করোনা পুরোপুরি নির্মূল হবেনা। আমরা রিসার্চ করে, পরিকাঠামো বাড়িয়ে এই রোগের মোকাবিলা করার শক্তি সঞ্চয় করবো, ও রোগটি দুর্বল হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকব। ততদিন সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করে ইনফেকশন রেটকে কমানোর চেষ্টা করুন। তাহলে অনেকগুলি প্রাণ বাঁচবে।

মূল লেখক: দেবত্রী দত্ত, ত্বকবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ।